তাদের হাতে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে চীনের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি চিপস জাতীয় স্ন্যাকস, নাম ‘লাতিয়াও’। স্থানীয় বাজারে জনপ্রিয়তার পর এখন খাবারটির চাহিদা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। চীন ছাড়িয়ে ১৬০ দেশের সুপারমার্কেটে মিলছে ঝাল-মিষ্টি লাতিয়াও।
চিবিয়ে খাওয়ার উপযোগী খাবারটি তৈরিতে প্রধান উপাদান হিসেবে গমের আটা ব্যবহার করা হয়। দেখতে এগুলো তেলযুক্ত ও চ্যাপ্টা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো। একসময় লাতিয়াওকে জাঙ্ক ফুড হিসেবে দেখা হতো। ১৮ বছর আগে জরুরি খাদ্য হিসেবে চালু হওয়া স্ন্যাকসটি এখন ৬০ বিলিয়ন ইউয়ানের (প্রায় ৮৯০ কোটি ডলার) এক বিশাল শিল্পে পরিণত হয়েছে।
চীনের হুনান প্রদেশের পিংজিয়াং এলাকার একটি কারখানায় দৈনিক প্রায় ৭০০ টন স্পঞ্জি লাতিয়াও তৈরি হয়। কারখানাটি পরিচালনা করে মালা ওয়াংজি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তাদের সম্পূর্ণ পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বব্যাপী চীনা সংস্কৃতির প্রতি ঝোঁক বাড়ায় বিদেশী ক্রেতাদের কাছেও লাতিয়াওর জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়ছে।
কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট লি মানলিয়াং জানান, লাতিয়াও এখন বিশ্বজুড়ে ১৬০টিরও বেশি দেশে রফতানি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশেও স্ন্যাকসটি বেশ কাটতি পাচ্ছে। অনলাইন ই-কমার্স প্লাটফর্ম, বিশেষায়িত গ্রোসারি শপ ও টিকটকের মাধ্যমে নতুন গ্রাহকরা খাবারটি কিনছেন।
চীনের সবচেয়ে বড় লাতিয়াও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ওয়েইলং। এটি হংকং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত।
কোম্পানিটি গত বছর বিদেশে প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ইউয়ান মূল্যের স্ন্যাকস বিক্রি করেছে। এ হার আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
খাবারটির ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৯৮ সালে ভয়াবহ বন্যায় সয়াবিন ফসল নষ্ট হয়ে গেলে জরুরি খাদ্য হিসেবে পিংজিয়াংয়ে এটি তৈরি করা হয়। সময়ের ব্যবধানে এটি সব সুপারমার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে স্বাস্থ্যহীন ও অস্বাস্থ্যকর ভাবমূর্তি থাকলেও এখন ব্র্যান্ডগুলো তা দূর করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে কারখানাগুলোয় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইভস্ট্রিম দেখানো হয়। প্রস্তুতকারকরা জানান, তারা ওষুধ শিল্পের মতো আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করছেন। পাশাপাশি তেল, লবণ ও চিনির ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। —জাপান টুডে অবলম্বনে